20
May

অন্দর ছোট, স্বপ্ন বড়

সৃজনশীলতা আর ভালবাসার গাঁথুনি দিয়েই তৈরি করা যায় আপনার ছোট্ট আবাসস্থলটিকে স্বপ্নিল আর বর্ণময়। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতিটি বাসায় কোনও না কোনও স্থানে অল্প হলেও কিছু জায়গা অব্যবহৃত অবস্থায় থাকে।যা কোনও কাজেই ব্যবহৃত হয়না, বরং শুধু শুধু জায়গাটা পরে থাকে। কিন্তু গাঠনিক আর কার্যকরী দিক চিন্তা করে ঘরের এই অব্যবহৃত স্থানটিকেই বানিয়ে নিতে পারি বহুমাত্রিক কাজে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে। তাই ছোট ঘর বলে আফসোস না করে কিভাবে প্রতিটি জায়গার যথাযথও ব্যাবহার করা যায় তা নিয়ে ভাবা দরকার।

সংসার শুরু হয় সাধারণত দুটো শোবার ঘর, খাওয়ার ঘর, বসার ঘর, রান্নাঘর আর এক চিলতে বারান্দা দিয়েই। কিন্তু তাতে জিনিসপত্র আর আসবাবের সমারোহ থাকে ভরপুর। তবে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাব না কেনাই ভালো। তাছাড়া, ছোট ঘরে খুব বেশি নকশা করা আসবাব মানাবে না। হালকা ছিমছাম ধরনের আসবাব বেছে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে হালফ্যাশনের নিচু আসবাব বেছে নিতে পারেন। নিচু খাট, নিচু টেবিল, নিচু সোফা ইত্যাদি আসবাব ঘরকে বড় দেখাতে সাহায্য করে। রঙের ক্ষেত্রেও রঙের হালকা আসবাব বেছে নিতে হবে। অন্যদিকে বাড়ির মধ্যে কোনো কলাম থাকলে সে ক্ষেত্রে কিছুটা জায়গা নষ্ট হয়। ইতিবাচকভাবে দেখলে এতেও কিন্তু কিছুটা জায়গা বের করে নেয়া যায়। এই জায়গাটুকুতে শেলফ বানিয়ে তাতে বিভিন্ন জিনিস রাখার উপযুক্ত ব্যাবস্থা করে নেয়ে যায়। আর অবশ্যই ছোট ঘরে প্রচুর আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। ঘর সাজানোর সময় খেয়াল রাখুন, ঘরে যেন প্রচুর আলো থাকে। কারণ ঘর ছোট কিংবা বড় দেখানোর ক্ষেত্রে আলোর ভূমিকা অনেক। আলো ঝলমলে ঘর দেখতে বেশ বড় লাগে। ঠিক একইভাবে পর্যাপ্ত আলো না থাকলে ঘর ছোট দেখায়। তাই অন্দর সজ্জায় আলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি, দেয়ালের রঙ খুব ভেবেচিন্তে পছন্দ করা উচিত। যেমন- হালকা রঙ ব্যাবহারে ঘর বড় দেখায়, আর গাঢ় রঙের ব্যবহারে জায়গা ছোট দেখায়। সেজন্য ছোট ফ্ল্যাটে যতটা সম্ভব হালকা রঙ ব্যবহার করাই ভালো। হালকা রঙ ঘরে একটা দিনের ভাব ফুটিয়ে তোলে। দেয়ালে অতিরিক্ত ছবি, পেইন্টিং কিংবা অন্য কোনো সাজানোর উপকরন না ঝুলানোই ভালো। দেয়ালে অতিরিক্ত জিনিস থাকলে ছোট ঘর আরো বেশি ছোট লাগে। দেয়ালে যদি কিছু লাগাতেই হয় তাহলে একটি পেইন্টিং লাগিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু এক দেয়ালে একটি পেইন্টিং ঝুলিয়ে দিলে অন্য দেয়াল গুলো খালি রাখুন। তাহলে ঘর বড় ও ছিমছাম দেখাবে। আর ছোট ফ্ল্যাটের দরজা কিংবা জানালায় পর্দা ব্যবহার করা উচিত হালকা কাপড়ের এবং রঙ হওয়া উচিত হালকা। পারলে জানালার পর্দার ঝুলটা একটু বেশি রাখবেন, এতে ঘরে বাড়তি স্পেস ইলিউশন তৈরি করা যায়।

আসলে, অন্দর ছোট হোক কিংবা বড়, ঠিকঠাক স্টোরেজ ব্যবস্থা না থাকলে অগোছালো হয়ে যায় দ্রুত। একটু বুঝেশুনে ঘর সাজালে স্টোরেজও হতে পারে গৃহসজ্জার অংশ। একসময় স্টোরেজ মানেই ছিলো আলাদা রুম কিংবা কোন এক কোণায় অগোছালো করে রাখা অপ্রয়োজনীয় জিনিস। এ ধরনের স্টোরেজ কেবল দৃষ্টিকটুই নয়, পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকরও। তবে এখনকার ইন্টেরিওরে স্টোরেজেও থাকছে নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার ছোঁয়া। যেমন, অন্দর ছোটও তাই হিডেন স্টোরেজের ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে জায়গা যেমন বাঁচে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় জিনিসও থাকে চোখের আড়ালে। ব্যতিক্রমি ডিজাইনে তৈরি করা যায় এ ধরনের স্টোরেজ। যেমন ছোট্টমনির বাথরুমে যদি আসল দেয়ালের আদলে ফলস দেয়াল তৈরি করা হয় তবে এই দুই দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে বানিয়ে নেয়া যায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার জন্য ড্রয়ার কিংবা তাক। একই কৌশল অবলম্বন করতে পারেন যেকোনও রুমের ক্ষেত্রে।

আবার  ধরা যাক, যখন তখন বাসায় মেহমান আসতেই পারে। তাই বলে কি আপনার শৌখিন বসার ঘর বা গেস্টরুমে বিছানা, বালিশ, তোশক দিয়ে ভরপুর করে রাখবেন? মোটেও নাহ। যদি আপনি মেহমানের জন্য টেম্পোরারি ফ্লোরিং বেডের ব্যবস্থা করতে পারেন তবে কিন্তু খুব সহজেই তা ফোল্ড করে স্টোরেজে রেখে আড়াল করে ফেলতে পারেন। আর রান্নাঘরে হিডেন স্টোরেজের সবচেয়ে বেশি দরকার। স্লাইডিং ডোর দিয়ে স্টোরেজ করলে আরোও বেশি জিনিস স্টোর করা যাবে। মূলত, রান্নাঘরের দেয়ালজুড়ে কেবিনেট তৈরি করতে পারেন। এই কেবিনেটের দুটি অংশ করে নেয়া ভালো। নিচের কেবিনেটে কাঠের পাল্লা আর ওপরের কেবিনেটে কাচের পাল্লা দিন। যেসব ক্রোকারিজ বা শোপিস আপনি সাজাতে চান, তা ওপরের কাচের পাল্লার কেবিনেটে রাখুন। আর মাঝের ফাঁকা অংশে থাকবে ওভেন, ব্লেন্ডার, টোস্টারসহ নানান আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র। অনেকগুলো ড্রয়ারসহ কনসোল টেবিল রাখতে পারেন ঘরের যেকোনো একটি কর্নারে। এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্টোর করার পাশাপাশি অন্যান্য কাজের জিনিসও রাখা যাবে এই  কনসোল টেবিলে।

এর বাইরে কোনও রুম যদি অতিরিক্ত ছোটও মনে হয় বা সাজানো ক্ষেত্রে মন মতন না হয় সে ক্ষেত্রে খুব ভালো বুদ্ধি হলও, ঘরের একটা দেয়াল জুড়ে আয়না ব্যাবহার করতে পারেন। আয়নায় ঘরের অন্য প্রান্ত প্রতিফলন সৃষ্টি করবে যা নান্দনিক ভাবে অন্দরকে প্রানবন্ত করে তুলবে।

আসলে ঘর ছোটও কিংবা বড় এই নিয়ে মানসিক চাপে না থেকে কার্যকরী ভাবে সাজিয়ে তুললেই অন্দর হবে আপনার পরম আস্থার স্থাপনা। তাই পরিচ্ছন্নতা, যত্ন আর ভালবাসায় গড়ে তুলুন আপনার মায়াময় ছোট্ট অন্দর। আর সেই ছোট্ট নীড়ে যে স্বাচ্ছন্দ্য পাবেন তা কোনও রাজসিক অট্টালিকার চেয়েও কম নয়।