25
Apr

আরামে ভরপুর, আরামদায়ক বেডরুম….

বেডরুম মানে একটা অন্দরের প্রাণ। বেডরুম যদিও খুব প্রাইভেট এরিয়া হিসেবে গননায় রাখা হয়, কিন্তু শান্তি আর আরামের জন্য এর কোনও বিকল্প নেই। আসলে বেডরুম কিভাবে উপায়ে করা হবে তার ধরাবাধা নিয়ম নেই। কিন্তু কিছু খুব সাধারণ সহজ উপায় আছে। যার মাধ্যমে পরিবারের আপন কিছু মুহূর্ত, বিশ্রাম আর প্রানবন্ত সময় কাটানো সম্ভব।

ঘরের রঙ ঘরের আয়তনের পরিবর্তন করতে পারেনা। তবে কেউ কেউ মনে করেন ঘরের রং উজ্জ্বল হওয়া অনুচিত, আবার কারো কারো মতে হালকা রং করা অনুচিত। উজ্জ্বল রঙে বেডরুমে একটা সতেজতা ভাব ফুটে উঠে আবার হালকা রঙে স্নিগ্ধতা ভাব থাকে। তবে ঘরে ডার্ক বা গাড় শেডের রং লাগানো অনুচিত এতে ঘর ছোট দেখায়। সিলিংয়ের রং সাদা করলে ঘরের উচ্চতা একটু বেশী মনে হবে। তবে চাইলে একটা দেয়ালের রঙ উজ্জল/গাড়/ডার্ক  বা ফ্লোরাল মোটিফের কোনও রং ব্যাববার করতে পারেন কিন্তু অন্য দেয়াল গুলোতে তাহলে অবশ্যই হালকা রঙ লাগালেই ভালো দেখাবে।

বেডরুমের দেওয়ালে ফটোগ্রাফ বা পেন্টিং লাগান। এটি ঘরটির থিম গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, একই সাথে ঘরটিকে জীবন্ত করে তুলবে। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, এই ছবিগুলি পরিবারের সদস্যদের যেন না হয়। পারিবারিক মুহূর্তের ছবি বাড়ির অন্যত্র লাগান কিন্তু বেডরুমে নয়। বেডরুমে থাকলে তা কোনও কোনও সময় স্মৃতির বোঝা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা একটি পরিপূর্ণ ঘুমের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠতে পারে। তাই বেডরুমের দেওয়ালে সেই সব ছবিই লাগান যা মনকে ভালো করে দেয়।

বেডরুমে যত কম আসবাব রাখবেন রুমে ততো স্পেস পাবেন। এতেও রুম বড় দেখাবে। প্রয়োজনে মাল্টিপারপাস আসবাব বানিয়ে নিতে পারেন। আবার দেয়াল সংযুক্ত/ ওয়াল ফিক্সড আসবাব কিন্তু বেড্রুমের জন্য বেশ কাজের। ঘরের দেওয়ালে বড় বড় আকৃতির একটা আয়না লাগালেই ঘরের আকার অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে যায়। আয়নাটা এমনভাবে লাগাবেন যাতে বাইরের আলো যদি ঘরে ঢুকে তবে আলোটা যেনও আয়নায় রিফলেক্ট হতে পারে। এতে ঘর আলোকিতও হবে পাশাপাশি ঘরটাও বড় মনে হবে। আলোর কমবেশির জন্য বেড/বিছানার উপর হালকা সিলিং করতে পারেন। এতে করে বেডরুমের নান্দনিকতার পাশাপাশি কৃত্তিম আলোর ভারসাম্য রক্ষা করা নিজের আয়ত্তেই থাকবে। এছাড়াও ঘরের কর্নারে রাখতে পারেনান কর্নার লাইট অথবা শেডেড ল্যাম্প। বেডরুমে জানালা দরজায় খুব বেশী মোটা বা ভারী পর্দা না লাগানই ভালো । এতে ঘর ছোট অনেকাংশে ছোটও দেখায়। রুমের রঙের সাথে মানানসই হালকা রঙের শিফন অথবা কটন পর্দা লাগাতে পারেন। তবে ছোটও রুমের ক্ষেত্রে বড় প্রিন্টের কাজ করা পর্দা ব্যববার করলে রুমকে আরও ছোট মনে হবে। এছাড়া পারিপার্শ্বিক দিক বিবেচনা করলে সুতি বা কটন পর্দা ব্যাবহার করাই শ্রেয় শবার ঘরের জন্য।

যদি সম্ভব হয় বেডরুমে টিভি না রাখাই ভালো। তার থেকে মিউজিক সিস্টেমে গান শুনতে পারেন, সঙ্গীত মনকে শান্ত করে, ঘুমোতে সাহায্য করে। কিন্তু ঘুমোনোর আগে টিভি দেখতে থাকলে তা ঘুমের ক্ষতি করতে পারে। যদিও কমিউনিকেশন আজকের দিনের অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয় তবুও, শুধু টিভিই নয়, যে কোনও ধরনের গ্যাজেট, যেমন কম্পিউটার/ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি বিছানার কাছ থেকে যথা সম্ভব দূরে রাখা উচিত। তবে প্রয়োজনীয়ও বৈদ্যুতিক সংযোগের কানেকশন নিজের সুবিধা মতো করে নিতে হবে।

আর বেডরুমে দৈনন্দিন ব্যাবহার করা সীমিতও সংখ্যক আসবাব থাকাটাই বেশী ভালো। ভারী ভারী আসবাবের চেয়ে ছোটও রুমের ক্ষেত্রে নিচু/ লো হাইট আসবাবই বরাবর মানানসই হয়। তাই রুমের ধরণ এবং নিজের পছন্দ, সাধ্য ও রুচির উপর নির্ভর করে আসবাব নির্বাচন করা ভালো।

আসলে বেডরুমের পুরো ব্যাপারটাই সৌখিনতা আর আভিজাত্যের পাশাপাশি আরামের দিকে বেশী খেয়াল রাখতে হয়। বেডরুম যদি আরামপ্রদও না হয় তবে দিনের শুরু কিংবা শেষ কোনটাই প্রাণচাঞ্চল্য হবেনা।আর সবচেয়ে বড় কথা হলও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমেও খুব সাধারণ কিছুর সমন্বয়েও প্রানবন্ত করে তোলা যায় অন্দরের প্রাণ বেডরুমকে।