24
Jan

আয়নামহল …………….

যুগ যুগ ধরে মানুষ নিজের প্রতিবিম্ব দেখে বিস্ময় অনুভব করেছে। আর এই বিস্ময় অনুভবের মূল কেন্দ্রবিন্দু হল আয়না। সাজার ক্ষেত্রে আয়না গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিজেকে আয়নায় দেখতে কার না ভালো লাগে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে বা ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে যার সামনাসামনি আমরা দাঁড়াই তা হলো আয়না। আর এই আয়না শুধু অন্যকেই সাজতে সাহায্য করে না, নিজেও সাজে ঘরের দেয়ালজুড়ে। আজকাল ঘর সাজানোর অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে আয়নার ব্যবহার হচ্ছে। তবে আয়নাটা ঘরের কোণে রাখার সময় অথবা দেয়ালে টাঙানোর আগে মনে রাখতে হবে, তা কোন ঘরের জন্য লাগানো হচ্ছে। Contemporary mirrorওই ঘরে কোন বয়সের লোক থাকবে, ঘরের আসবাবপত্রের রং কেমন, এই সবকিছুর ওপর নির্ভর করবে কোন ধরনের আয়না সেখানে ব্যবহার করা হবে। ঘরের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বাড়ির বিভিন্ন জায়গাতে আয়না লাগানো যেতে পারে।

ঘরে প্রবেশপথের পাশের দেয়ালে লাগানো যেতে পারে আয়না। যাতে করে ঘরে ঢোকার সময় বা বাইরে বের হওয়ার সময় এক ঝলক দেখে নেওয়া যেতে পারে নিজেকে। সেই ক্ষেত্রে আয়নাটি একটু বড় এবং লম্বাটে ধরনের হতে হবে।

সিঁড়িকোটায় লাগাতে পারেন কাঠ, তামা, পিতল, মাটির ফ্রেমে তৈরি করা কোনো আয়না। বসার ঘর বা খাবার ঘরের জন্য ব্যবহৃত আয়নাগুলো গোল, লম্বাটে, আয়তকার বা ত্রিকোণসহ যেকোনো আকারের হতে পারে। সাধারণত এই আয়Oval-Gold-Mirrorনাগুলো কারুকার্যখচিত হলেই ভালো।

বসার ঘরের আয়নাতে কাঠের সঙ্গে পিতল বা তামার ব্যবহার হলে মন্দ লাগবে না। বসার ঘরটা বেশি বড় দেখাতে চাইলে জানালার বিপরীত দিকে আয়না লাগালে  আলোর প্রতি ফলনে ঘরটা আরও উজ্জ্বল ও বড় মনে হবে। খাবার ঘরে একাধিক আয়না না লাগিয়ে একটা লাগানোই ভালো। বিশেষ করে বেসিনের ওপরে।

শোবার ঘরের আলমারির পাল্লাতে বড় আয়না লাগানো যেতে পারে। এতে যেমন ঘরটা বড় দেখাবে তেমন ড্রেসিং টেবিলের অভাবটাও অনেকটা পূরণ হবে। এ ছাড়া যে দেয়ালটা খালিথাকবে সেখানে বিভিন্ন ধরনের আয়না লাগানো যেতে পারে। তা ছাড়া বড় ফ্রেমে আয়না বানিয়ে সাঁটিয়ে দিতে পারেন দেয়ালে। এতে করে পূর্ণ অবয়ব দেখার সুযোগ থাকবে।

যত্ন :

যত্নের অভাবে আয়নার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। সুন্দর কারুকাজ করা আয়নার ফ্রেমে খুব সহজে ধুলো জমে যেতে পারে, এ ছাড়া আয়নায় ধুলা জমেও অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই আয়না পরিষ্কার করুন নিয়মিত।  তাই আয়না পরিষ্কার করুন নিয়মিত। আয়না পরিষ্কার করতে, নরম কাগজকে কুঁচকে বলের মত বানিয়ে তা পানিতে সামান্য ভিজিয়ে আয়নাটা মুছে ফেলুন। তারপর সঙ্গে সঙ্গে ভেজা আয়না মুছে ফেলতে আর একটি শুকনা কাগজ একই ভাবে কুঁচকে বলের মতো করে মুছে নিন। এতে সহজেই আয়না পরিষ্কার হবে। সপ্তাহে ১দিন গ্লাস ক্লিনার দিয়েও আয়না পরিষ্কার করে নিতে পারেন।