03
May

ইন্টেরিয়র ডিজাইন কি?

Interior শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Intro থেকে – যার অর্থ ভিতর, এর সাথে যুক্ত হয়েছে Design শব্দটি – যার অর্থ নকশা । এই দুটি শব্দ একত্রিত করলে হয় Interior Design । যার আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় আভ্যন্তরীণ নকশা বা অন্দর সজ্জা । তবে সাধারণত ইন্টেরিয়র ডিজাইন বলতে অন্দর সজ্জা বা অভ্যন্তরীণ যে কোনও কিছুর জাঁকজমকেই বুঝে থাকি আমরা। কিন্তু বাস্তবে শুধু অন্দর বা অভ্যন্তরীণ সজ্জা নয় বরং ইন্টেরিয়র ডিজাইন আরো ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয় ।

প্রাথমিক ভাবে, শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ অন্দর সজ্জার দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, প্রতিটি ঘরের গৃহিণীতো বটেই অন্যান্য সদস্যরাও বাড়ির সাজসজ্জায় বেশ পারদর্শী এবং আগ্রহী। বাড়ি কি রঙ করবেন, বেডরুম কতটুকু স্পেসে হবে, কোথায় কোন আসবাব রাখবেন, ডাইনিংটা কেমন হবে, রান্নাঘরে কোন কেবিনেট লাগাবেন, মোটকথা ঘর ‘ডেকোরেশনের’ এমন চিন্তা-ভাবনা খুব উৎসাহী। বাজার থেকে পছন্দ মতন জিনিস কিনে সাজিয়ে ফেলেন। এই সাজানোকে ‘ডেকোরেশনই’ বলা যায়। কারন এই কাজে কোন নিজস্ব কোনও সৃজনশীলতা নেই। আসলে, অনেকেই কিন্তু ভাবেন বাসা বা অফিস যেমন আছে, তন্মধ্যে সোফা-কার্পেট বা আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার নামই হয়তো ইন্টেরিয়র ডিজাইন। বিষয়টি কিন্তু মোটেও তেমন নয়। কেন না ইন্টেরিয়র ডিজাইনটা হল হলিস্টিক ব্যাপার। এক কথায়- দরজাটা কেমন, কোথায় বা কোন টাইপের আল্পনা বা নকশা করলে সুন্দর লাগবে, জানালাটা কোন পাশে বা কিভাবে থাকলে আলো বা রুমের কালারটি ফুটে উঠবে।

মুলত, প্রতিটি স্থানকে কাজে লাগিয়ে আসবাব, লাইট, গৃহসজ্জা সামগ্রীর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়ি, অফিস বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে আরামদায়ক ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করাই ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রধান লক্ষ্য ।এক কথায় বলা চলে, ঘরের দেয়ালের রঙ, মানানসই আসবাবপত্রের ডিজাইন ও রঙ থেকে শুরু করে স্বল্প পরিসরের জায়গাকে কীভাবে বেশি করে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে যাবতীয় ডিজাইন ও বাস্তবায়ন করাটাই ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কাজ।

 

ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের বেশিরভাগই সময় কিন্তু বিল্ডিংয়ের ডিজাইন এরপর আর্কিটেক্চার সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে এদিক-সেদিক করতে হয়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় দরজা-জানালা বা দেয়ালের সেটিং পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে বিল্ডিংটি যাতে ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়। সুতরাং আপনার এ সংশ্লিষ্ট একাডেমিক জ্ঞান না থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

অন্দর সাজুক নান্দনিকতায় এবং ভরপুর থাকুক সৃজনশীলতায়। তবে অবশ্যই তা যেনও থাকে সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর আপনি আপনার অন্দর যেভাবেই সাজান না কেনও, তা যেনও কোনোভাবেই আপনার স্বাচ্ছন্দ্যকে নষ্ট না করে, সে দিকটি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।