19
Apr

দেয়ালে লাগুক রঙের ছোঁয়া …………….

গ্রীষ্মের এই সময়টাতে অনেকেই বাড়ির সংস্কার কাজে হাত দিয়ে থাকেন, বিশেষ করে বাড়ি রং করান অনেকেই। গরমের ফলে শুষ্ক আবহাওয়ার সুবিধাটুকু এভাবেই নেয়া যায়। রং বা অন্যান্য সংস্কার করার পর তা খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় এই আবহাওয়ায়। তাই বর্ষাকাল আসার আগেই করে ফেলুন আপনার বাড়ি সংস্কারের প্রয়োজনীয় কাজগুলো।

 

ঘরে রঙের ব্যবহার ঘরের চরিত্র বদলে ফেলতে সক্ষম। বিশেষ করে ছোট ঘর বড় দেখানোর সঠিক রং নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ সঠিক রং, টেক্সচার ও এসবের ব্যবহারই অন্দরসাজের মূল কথা।

 

ছোট্ট ঘর মানেই যে তাতে দমবন্ধ ভাব থাকবে, তা নয়। ভুল রঙের নির্বাচনে একটা বড় ঘরকেও দেখতে ছোট লাগে আবার রঙের সঠিক ব্যবহার ঘরের আকার তো বটেই, ঘরের পরিবেশেও নিয়ে আসে ইতিবাচক পরিবর্তন। বেশ কিছু রং যেমন রয়াল আইভরি, চন্দন, অফ হোয়াই বা আইসি ব্লু দেখতে যেমন উজ্জ্বল লাগে তেমনি ঘর বড় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করে। রং নির্বাচনের সময় মনে রাখবেন, উজ্জ্বল এবং কোমল ধরনের রং ঘর বড় দেখাতে সাহায্য করে।

 

আসবাবপত্রের রঙের সাথে মিল রেখে দেয়ালে রং করান। যদি আসবাবপত্রের রং হালকা হয় তাহলে দেয়ালেও এমন রং করান। এতে আসবাবের আয়তন ছোট দেখায় এবং ঘরে একটা খোলামেলা পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দরজা ও জানালায় দেয়ালের চেয়ে একটু গাঢ় রং ব্যবহার করতে পারেন। দেয়ালে যদি গাঢ় রং করতে চান তাহলে একটা দেয়ালে করান এবং স্যাটিন কোট করুন। এতে আলো প্রতিফলিত হবে এবং ঘর বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে। এতে ঘরে একটা প্রাধান্যেরও সৃষ্টি হবে। গাঢ় রঙের দেয়ালটি আকর্ষণীয় করে তুলতে দেয়ালটি বিশেষ ভাবে সাজাতে পারেন।

 

ঘরের রং যত হালকা এবং প্রাকৃতিক থাকে তত দেখতে ভালো লাগে। রঙিন এবং উজ্জ্বল ভাব নিয়ে আসতে কনস্ট্রাস্ট পর্দা এবং কুশন কভার ব্যবহার করতে পারেন। যদি ঘরে সূর্যের আলো কম ঢোকে তাহলে কোনোভাবেই দেয়ালে গাঢ় রং করবেন না। এতে ঘর ছোট এবং অন্ধকার দেখাবে। এক্ষেত্রে উজ্জ্বল হলুদ, অকার ইয়েলো, ল্যাভেন্ডার, বেজ রং আদর্শ হতে পারে। যদি একটু গাঢ় রং করতে চান অথবা ঘরে উষ্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চান তাহলে কমলা, সানসেট অরেঞ্জ বা ম্যাট লাল রং একটা দেয়ালে করে অন্য দেয়ালে সামঞ্জস্যপূর্ণ রং ব্যবহার করুন।

 

কনট্রাস্ট রঙের ব্যবহার ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে ও মনমরা ভাব দূর করে। তাই দুটি পরস্পর বিপরীতধর্মী রঙে রাঙাতে পারেন ঘরের দেয়াল। একটা দেয়ালে লালচে কোনো রং ব্যবহার করে বাকি তিনটি দেয়ালে ব্যবহার করতে পারেন অফ হোয়াইট। এতে কক্ষে বৈপরীত্যের সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশে একটা উত্তেজনা বিরাজ করবে।

যেসব ঘরে আলো ঢোকে সেসব ঘরে একটু গাঢ় রং করতে পারেন অনায়াসেই। সি গ্রিন, টারকয়াজ, গাঢ় নীল, গাঢ় গোলাপি রং ব্যবহার করতে পারেন। ঘর দক্ষিণমুখী হলে হালকা সবুজ, হালকা নীল, হালকা হলুদ বা অফ হোয়াইট রং করতে পারেন।

 

প্যাটার্ন পেইন্টিংও বেশ ভালো দেখায় দেখায় দেয়ালে। ঘরের একটি দেয়ালে কয়েকটি সামঞ্জস্য রং ব্যবহার করে প্যাটার্ন পেইন্টিং করতে পারেন। আবার টেক্সচারড দেয়ালও খুব আকর্ষণীয় লাগে। এটা একটু ব্যয়সাপেক্ষ, তবে ঘর সুন্দর দেখানোর জন্য এতটুকু তো করা যেতেই পারে!

 

ঘরের ব্যবহার অনুযায়ী দেয়ালের রং নির্বাচন করা উচিত। খেয়াল রাখুন কিছু ব্যাপার –

 

*রান্নাঘরে প্রচুর আলোর দরকার হয়। তাই আলো প্রতিফলিত হবে এমন রং রান্নাঘরের জন্য নির্বাচন করুন। যেমন – সাদা বা অফ হোয়াইট।

 

*বাথরুমে ব্যবহার করুন হালকা রং, যাতে পরিবেশ স্যাঁতস্যাঁতে না লাগে।

 

*খাবার ঘরে উষ্ণ রং এবং হালকা রং ব্যবহার করুন। এতে খাদ্য গ্রহণে আগ্রহ বাড়ে।

 

*শিশুদের ঘরে ব্যবহার করুন উষ্ণ ও উজ্জ্বল রং। যেমন – হলুদ, কমলা, গোলাপি, নীল ইত্যাদি।

 

*বারান্দা ও করিডোরে ব্যবহার করুন হালকা ও কোমল ধরনের রং।

 

*বসার ঘরে আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করতে উজ্জ্বল ও উষ্ণ রং ব্যবহার করুন।

 

*শোবার ঘরে ব্যবহার করুন শীতল রং যেমন – নীল বা সবুজাভ রং। এতে ঘরে সৃষ্টি হবে প্রশান্তিময় পরিবেশ।color-palettes yellow-gray-amp-blue-color-scheme.-not-a-fan-of-the-yellow-but-i-sharp39-m-loving-the-blue-shade. Color-Scheme-Fall-Fashion