01
Aug

পুরনোতেই নতুনত্ব………………

নিজের বাড়ি হোক আর ভাড়া বাসাই হোক মাঝে মাঝে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আবশ্যক এবং অত্যন্ত জরুরী। আধুনিকতার সাথে নিজের সাধ্যের সামঞ্জস্য বজায় রেখে নিজের ঘরকে রাখতে হবে পরিছন্ন, আলোকিত এবং সুন্দর ভাবে বসবাসের উপযোগী।সামান্য কিছু পরিবর্তন, অল্প কিছু সংযজন আর প্রয়োজনে হালকা কিছু বাতিল করলেই কিন্তু ঘর হয়ে উঠবে নান্দনিকতায় ভরপুর।

অনেক সময় বাসা বাড়ির এই অদল-বদল, পরিবর্তন মানসিক দ্বন্দে এবং দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে তা নয়। বরং অনেক বেশী ধীর স্থির ভাবে চিন্তা ভাবনা করে এই কাজগুলো করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা হলও আর্থিক দিক থেকেও চাপ অনেক কম হবে যদি পরিকল্পনা মাফিক ঘরের কাজ করা হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলও কিছু ছোটোখাটো কৌশল অবলম্বন করলে নিজের ছোট্ট নীড়কেও করা যায় স্বপ্নময়।

তিনটি প্রধান দিক প্রথমে বিবেচনায় আসে,

১। নতুন কিছু সংযজন, পুরাতন কিছু বাতিল

২। ঘরকে উজ্জ্বল এবং আলোকিত করা

৩। ঘরের দেয়ালগুলোকে প্রানবন্ত করা

11798371_10207479170002159_1386554184_nনতুন কিছু সংযজন, পুরাতন কিছু বাতিল

প্রথমেই খুব ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, ঘরে কি কি জিনিস দেখতে ভালো লাগছে, আর কোন জিনিষগুলো অসামঞ্জস্য দেখায়।আর নতুন কিছু কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে জিনিসটার প্রয়োজনীয়তা ঠিক কতখানি।কোনও একটা ছুটির দিন হয়তো একটা লিস্ট করে নিতে পারি, কি লাগবে আর কতোটুকু জরুরী তা।প্রথমে রান্নাঘর, তারপর বাথরুম এরপর হয়তো বেডরুম। এরকম একটা একটা রুম ধরে ধরে কাজ করতে হবে। একদিনে পুরো বাসা উলোট-পালোট করলে কাজ আগাবেইনা বরং ঝামেলা বেড়ে যাবে।নতুন কোনও জিনিস ভালো লাগলো, আর কিনে বাসায় রেখে দিলাম তা কোনও উপযুক্ত কাজ হলনা। বরং বাসা যতটা সম্ভব ফাঁকা থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।সবসময় যা প্রয়োজন কেবল তাই চোখের সামনে এবং হাতের নাগালে রাখা উচিৎ। আর বাকি জিনিসপত্র যেনও একটা নির্দিষ্ট স্টোরেজ বা কেবিনেটে গুছিয়ে রাখা যায় সেই ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা উচিৎ। কোনও জিনিস বড্ড বেশী বেমানান, দৃষ্টিকটু বা ব্যাবহার অনুপযোগী হলে তা বাতিল করাই শ্রেয়।

ঘরকে উজ্জ্বল এবং আলোকিত করা

আলো বা লাইট ঘরকে যেমন আলোকিত করে নয়ানাভিরাম করে তুলতে পারে, তেমনি অপর্যাপ্ত আলোয় ঘরটাকে চোখের কাছে অস্বস্তিময় করে তুলে। প্রাকৃতিক বৈচিত্রের আলো আধারের খেলা তো রয়েছেই, এরবাইরেও প্রয়োজন রয়েছে কৃত্তিম আলোর পারদর্শিতার।পর্যাপ্ত আলো ঘরকে করে তুলে অনেক বেশী সহজ ভাবে বাসযোগ্য।তবে প্রাকৃতিক আলোর উপর বড় কোনও শান্তি নেই। চোখের আরাম, মনের শান্তি আর ঘরের সৌন্দর্যে প্রাকৃতিক আলোর ভুমিকা অনবদ্য। তাই খেয়াল রাখতে হবে ঘরের জানালাগুলো যেনও সবসময় উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে।কোনও ফার্নিচার বা আসবাবপত্রে যেনও জানলা ঢেকে না দেয়া হয়।

যদি খুব বেশী ঝামেলা না হয়, তবে ঘরের বৈদ্যুতিক বাতি এবং তার সুইচগুলো বদলে ফেলতে পারলে অনেকখানি পরিবর্তন আনা যাবে। ঘরে ছোটোখাটো আলোর উৎস, যেমন টেবিল ল্যাম্প, সিলিং থেকে ঝুলানো ঝাড়বাতি এছাড়াও নানান ধরণের লাইট শেড গুলো ঘর সাজাতে এবং নতুনত্ব আনতে পারদর্শী।

তবে ঘরের পর্দাও কিন্তু একটা বড় মাধ্যম আলোর প্রবেশ এবং ঘরের আলোর তারতম্য নির্ভরে।হালকা রঙের স্বচ্ছ পর্দা ঘরকে অনেকখানি আলোকিত করতে সাহায্য করে। তাই উপযুক্ত পর্দা বাছাই করাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

11806671_10207479170042160_1600448723_oঘরের দেয়ালগুলোকে প্রানবন্ত করা

ঘরের দেয়াল কথা বলে।পুরনো ঘরকে একদম নতুন আঙ্গিকে সাজানোর সর্বপ্রথম উপায় ঘরকে নতুন রঙে রাঙানো। বাড়িতে রং করানোর কাজটিকে অনেকের ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ ও বিরক্তিকর মনে হয়। কিন্তু শৌখিনতার চেয়েও এটি প্রয়োজনীয় বেশি। কেননা, সময়মতো বাড়ি রং করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। বাড়িতে সদ্য রং করার পর অনেকেরই রঙের গন্ধ সহ্য হয় না। গন্ধ কমাতে ঘরের মধ্যে এক বাটি ভিনেগার রাখা যেতে পারে। সারারাত রাখতে হবে। পরদিন সকালে ঘরের জানালা-দরজা খুলে দিলে, গন্ধ চলে যাবে।

আর রঙিন এই ঘরের দেয়ালটাকে ফাঁকা না রেখে কাজে লাগিয়ে ফেলতে পারি।কতো কি থাকে ঘরে, কতকিছুইতো সাজিয়ে রাখতে ইচ্ছে হয়।দেয়াল ঘড়ি, ছবির ফ্রেম এসব তো আছেই, এর বাইরে একটু ভিন্ন আঙ্গিকের দেয়ালে ঝুলানো শেলফ বা কেবিনেট, ছোট ছোট গাছ বা শোপিস রাখার ওয়াল মাউন্ট স্ট্যান্ড আরও কতো কিছু। আর এই ছোট ছোট জিনিস করতে খুব বেশী সময় খরচ বা ঝামেলা কোনটাই পোহাতে হয়না। শুধু মাত্র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর কৌশল মতো কাজ গুলো করতে পারলে কিন্তু পুরনোতেই নতুনত্ব খুজে পাওয়া যাবে।