16
Aug

বর্ষণমুখর পরিবেশেও সতেজ অন্দর

গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড সূর্যের খরতাপ যেনো জাদুর ছোঁয়ায় ম্লান করে দেয় বর্ষাকাল। আর বর্ষা কালের রূপ শুধু যেনও আকাশ বাতাস আর প্রকৃতি ঘিরেই সীমিত থাকেনা,  তার স্পর্শ ছুঁয়ে যায় মানব মনের গভীরে। তবে বর্ষাকালে বাইরের ঝক্কি ঝামেলার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু  সত্যি কথা কি বর্ষাকালে ঘরে বসে বৃষ্টি দেখাটা বেশির ভাগ সময়ই কিন্তু উপভোগ্য হয়ে উঠে। আবার অনেক ভোজনরসিক এই সময় খাদ্যের তালিকা বানাতে বসেন আর কাব্ব্য প্রেমিরা চিন্তায় মগ্ন থাকেন নতুন কোনও পংতি চয়নে। প্রকৃতির এই নান্দনিক ঝরনা ধারা মানব জীবনে অসামান্য প্রভাব ফেলে। আর এই প্রভাবের খানিকটা কিন্তু অন্দরের ভারসাম্যতেও তারতম্য করে।

 

বর্ষায় গুমোট আবহাওয়ায় সব যেনও কেমন আর্দ্র হয়ে উঠে। পানি জমে  কিংবা পানিতে ভিজে যেখানে সেখানে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে। সবচেয়ে বড় কথা হলও পোকা মাকড়ের উপদ্রবও হয় খুব বেশি। বর্ষায় এসব থেকে মুক্তি পেতে চাই একটু বাড়তি সতর্কতা। বর্ষার রিনিঝিনি বর্ষণ উপভোগ করার জন্য তাই মনোযোগ দিতে হবে অন্দর সুরক্ষায়। এক্ষেত্রে সবার আগে লক্ষ্য রাখতে হবে, ঘরে ঠিকমতো আলো বাতাস প্রবেশ করছে কিনা।

বর্ষার ঘন বর্ষণ হোক কিংবা হালকা, অন্দরের প্রায় সব জায়গাই কিন্তু গুমোট একটা ভাব হয়ে যায়। মাঝে মাঝে হালকা একটা অস্বস্তিকর বাজে গন্ধেরও উপদ্রুপ হয়। তারচেয়ে বড় সমস্যা যেখানে অনেক স্থানেই ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের সৃষ্টি হয়। যাদের একটু পুরনো বাসা তাদের তো এই সমস্যা আছেই, কিন্তু যাদের নতুন বাসা তারাও এই সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পায়না।

শুধু আসবাব বা সাধারন জিনিস্পত্রেই নয়, বর্ষায় চাল, ডাল ও আটাতেও কিন্তু পোকার উপদ্রব দেখা দেয়। এক্ষেত্রে এইসব আনাজপাতির মধ্যে কয়েকটা শুকনা নিমপাতা রেখে দিলে পোকার উপদ্রব অনেকটা কমে যাবে। এছাড়া মশা-মাছির উপদ্রব কমাতে কয়েকটা কর্পূর পানিতে ভিজিয়ে ঘরের কোণে রেখে দিন। নাহলে, ব্যবহৃত চা পাতা ভালো করে শুকিয়ে ধূপের মতো ব্যবহার করলেও উপকার পাওয়া যাবে। আবার নিমপাতাও খুব কার্যকরী এবং প্রয়োজনীয় বস্তু। বর্ষায় পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষায় এর বিকল্প নেই।আর প্রতিদিন ঘর মোছার সময় ক্লিনার বা ফিনাইল ব্যবহার করা খুবই জরুরী। এতে ঘরের মেঝে জীবাণুমুক্ত থাকবে।

আমাদের সবারই বাসায় কমবেশি কাঠ বা প্রসেসড উডের তৈরি আসবাব  থাকে। আর এই ধরণের আসবাবে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক আক্রমনের সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশী। তবে আসবাবে ছত্রাক জমে গেলে দূর করার জন্য আছে একটি বিশেষ উপায়। চা পাতা জ্বাল দিয়ে কড়া লিকার বানিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর তাতে মেশান অল্প একটূ ভিনেগার। নরম একটি কাপড় এই মিশ্রণে ডুবিয়ে ভালো করে চিপে নিন। এবং সেটা দিয়ে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করে নিন। এতে করে ছত্রাক থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রান মিলবে। যদি ফাঙ্গাসের পরিমান বেশী হয় সাথে পোকার প্রকোপ দেখা দেয় তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া আবশ্যক এবং পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করা খুবই জরুরী।

বর্ষার সময় আরেকটি বড় সমস্যা হলও বই প্রেমিদের জন্য। যাদের সংরক্ষনে একটু পুরনো বই বা সংগ্রহে অনেক বই আছে তাদের এ সময়  কিছুটা হলেও ঝামেলা পোহাতে হয়। সাধারণত যে বইগুলো একটু কম নাড়াচাড়া হয় বা পুরনো, সেগুলো এই মৌসুমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। তাই, বাসার স্যাঁতসেঁতে ও ভেজা জায়গায় কখনোই বই উচিৎ নয়। মূলতও পর্যাপ্ত আলো-বাতাস রয়েছে, এমন স্থানেই বই রাখতে হবে। পোকামাকড়ের উপদ্রব যাতে না হয় সে জন্য বইয়ের ভেতর ন্যাপথলিন রাখা বেশ ভালো। আর বইয়ের তাকে শুকনো নিমপাতাও রাখতে পারেন। আর কোনও বই যদি পোকা বা ছত্রাকের আক্রমনে স্বীকার হয় তবে সাথে সাথে তা পরিষ্কার করে কড়া রোদে দিতে হবে। জামা-কাপড়ের স্যাঁতসেঁতে ভাব নিমিষেই দূর করতে আলমারি কিংবা ওয়ারড্রোবে একটু বেশী পরিমানে ন্যাপথলিন রেখে দিন। শুধু তাই নয়, ন্যাপথলিন কিন্তু বাথরুম বেসিনের ছিদ্রতেও রাখতে পারেন। এতে করে ন্যাপথলিনের গন্ধে সহজে কোনও পোকামাকড় আসতে পারবেনা। আর যেসব জায়গায় প্রতিনিয়ত পিঁপড়া বা পোকামাকড় আক্রমন করে সেখানে রাতে ঘুমাবার আগে ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে রাখা ভালো। শকালে হালকা গরম পানিতে ফিনাইল বা ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেললে অনেক ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

ঘরে ইনডোর প্লান্টস থাকলে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে পানি ঝরিয়ে নিন। জমে থাকা পানিতে গাছের গোড়া পচে যাবে আর পোকার জন্ম হবে। তাই ইনডোর প্ল্যান্টসগুলো রাখতে হবে পরম যত্নে। ঘরের ভেতরের ভেজাভাব দূর করার জন্য রুম ফ্রেশনার স্প্রে করুন। তবে সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক ফ্রেশনার হলও ফুল। হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে।তাতে ঘর থাকবে অনেক সতেজ। এছাড়াও বাজারে পাওয়া যায় নানান ধরণের সুগন্ধি যুক্ত মোম।হালকা ফুলের সুবাব কিংবা মৃদু সুগন্ধি যুক্ত মোম কিন্তু বর্ষায় অন্দরে ভিন্ন আমেজেরও সৃষ্টি করে। আর একটা কথা সবসময় স্মরণ রাখা ভালো সবুজ গাছ আর প্রাকৃতিক আলো বাতাসের আলোড়ন ঘরকে সরবদাই সতেজ আর প্রানবন্ত রাখতে সহায়তা করে।

আসলে বর্ষার সৌন্দর্যের উপমা কোনও ভাবেই বিশ্লেষণ দেয়া সম্ভব নয়। অন্দরের এই অল্প বিস্তর পরিচর্চায় যদি প্রকৃতির এই অনবদ্য সৌন্দর্য উপভোগ্য হয়ে উঠে তবে এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে। বাইরের হাজারও ঝামেলা, রাস্তাঘাটের কাদা পানি অতিক্রম করে এসে যদি অন্দরে বসে বর্ষার আমেজ উপভোগ করা যায় তবে তাই হবে পরিবারের সাথে কাটানো শ্রেষ্ঠ সময়।