29
May

বাসস্থানে রঙের আধিপত্য

বাড়ির ভেতরে এবং বাইরের দিকে রঙ করার কিছু নমুনা

দেশে বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠানের প্লাস্টিক পেইন্ট, ডিস্টেম্পার, ইলিউশন ইত্যাদি রং পরিবেশবান্ধব উপায়ে বাজারে এসেছে। তাই রং কেনার আগে অবশ্যই খেয়াল করে কিনুন, তা পরিবেশবান্ধব কি না। আর দামেরও খুব একটা তারতম্য নেই,  সাধ্যের নাগালেই। রঙের গন্ধ পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার পর ঘরে বসবাস শুরু করুন অথবা রঙের বিষক্রিয়া দূর করতে ঘরে বেশি করে ‘ইনডোর প্ল্যান্ট’ লাগান।

ডিসটেম্পার : ইট, কংক্রিট ও প্লাস্টারের ওপর ডিসটেম্পার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ডিসটেম্পার, যেমন-অ্যাক্রেলিক, সিনথেটিক, ড্রাই ইত্যাদি। অ্যাক্রেলিক ডিসটেম্পার পানি দিয়ে ধোয়া যায়। কিন্তু সিনথেটিক ও ড্রাই ডিসটেম্পার পানি দিয়ে ধোয়া যায় না।

প্লাস্টিক পেইন্ট : প্লাস্টিক ইমালশন নামেই বেশি পরিচিত। পানি বেজড রং, যা দীর্ঘস্থায়ী ও ধোয়া যায়। প্লাস্টিক পেইন্ট তিন ধরনের। রেগুলার, ইকোনমিক ও প্রিমিয়ার ইমালশন।

বাড়ির বাইরের দিকে আবহওয়ার প্রভাব থাকে। তাই বাড়ির ভেতর থেকে বাইরের রং ভিন্ন হয়। সিমেন্ট পেইন্ট : পানি বেজড রং।

অ্যাক্রেলিক ইমালশন : বেশি ব্যবহৃত রং এবং দীর্ঘস্থায়ী ও ধোয়া যায়।

 

টেক্সার প্লাস্টার : এটা ইমালশন বেজড রং। এতে পানির বদলে ইমালশন ব্যবহার করা হয়।

* বাড়ির বাইরের দেয়ালে রং করতে চাইলে মাথায় রাখুন আবহাওয়া। বাইরের দেয়ালে রং লাগানোর জন্য গ্রীষ্মকাল সবচেয়ে উপযোগী। ভেতরের দেয়ালে বছরের যেকোনো সময় রং করাতে পারেন। চাইলে বর্ষাকালেও ভেতরের দেয়ালে রং করা যায়।

* প্রথমবার রং করানোর ক্ষেত্রে সিমেন্টের আস্তরের ৯০ দিন পর সিলার ব্যবহার করুন। সিমেন্টের আস্তরণ পুরোপুরি শুকাতে তিন মাস সময় লাগে।

* দেয়াল খুব ভালো করে শুকিয়ে গেলে ভেতরের দেয়ালে সিলার ব্যবহার করুন। এতে দেয়াল মসৃণ হবে।

* আর বাইরের দেয়ালে মসৃণতা আনতে পুডিং প্রলেপ দিন। পুডিং ব্যবহার করার আগে পানি দিয়ে দেয়াল ভিজিয়ে নিন। খরচ কমাতে চাইলে পুডিংয়ের পরিবর্তে তিন কোট রং অর্থাৎ তিনবার রঙের প্রলেপ দিলেও দেয়াল মসৃণ হবে।

* দেয়ালে রং করার আগে পাথর দিয়ে দেয়াল ভালোভাবে ঘষে নিতে হবে। প্রাইমারি কোট শুকানোর পর সেকেন্ডারি কোট ব্যবহার করুন। এবং সেকেন্ডারি কোট ভালোভাবে শুকালে তারপর টারশিয়ারি বা ফাইনাল কোট রং দেওয়া উচিত।

* পুরনো বাড়ির ক্ষেত্রে বাইরের দেয়াল তিন বছর পর পর রং করা উচিত। ভেতরের দেয়ালের রং সাধারনত পাঁচ বছর পর্যন্ত উজ্জ্বল থাকে।

* পুরনো বাড়ির বাইরে দেয়ালে রং করার আগে ছত্রাকগুলোকে চেঁছে তুলে ফেলতে হবে। তারপর দেয়ালে অ্যান্টি-ফাঙ্গাশ সলিউশন ব্যবহার করুন। এতে দেয়ালের রং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

* বাড়ির দেয়ালের জন্য সাধারণত ডিসটেম্পার ও প্লাষ্টিক পেইন্ট এই দুই ধরনের রং ব্যবহার হয়।

* বাইরের দেয়ালে আবহওয়ার প্রভাব থাকে। তাই এখানে ব্যবহার করুন অ্যাক্রেলিক ইমালশন।

রং  করার উপযুক্ত সময় :

১) যেহেতু বর্ষাকালে বাড়ির বাহিরের অংশে রং করা যায় না সেহেতু গ্রীষ্মকালেই বাড়ির বাহিরের অংশে রং করার উপযুক্ত সময়, তবে শীতকালেও করা সম্ভব ।

২) বাড়ির ভেতরের অংশে যে কোন ঋতুতে রং করা যায় , তবে বর্ষাকালে না করাই শ্রেয় ।