বাঙালি আমেজে অন্দরসজ্জা

বাঙালি আমেজে অন্দরসজ্জা

বাঙালি মনের বাঙালি আমেজে ভরপুর পহেলা বৈশাখ। ইংরেজি বছরের এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই যেনও আমাদের মনে আনন্দের বার্তা বইতে থাকে নতুন বাংলা বর্ষকে বরন করে নেবার জন্য। বাহ্যিক আনন্দের পাশাপাশি প্রকৃতিও যেনও নিজ আগমনের ধ্বনি চারপাশে ছড়িয়ে দেয় রঙ আর রুপের মাধ্যমে।

নারী পুরুষ নানান রঙ্গে ভরপুর পোশাকে প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেকে সাজিয়ে তুলে পরিপূর্ণ ভাবে। পাশাপাশি ভোজন রসিক মানুষ মুখিয়ে থাকেন কব্জি ডুবিয়ে মুখোরুচক বাঙালি খাবারের স্বাদ গ্রহনের জন্য।  আর অতিথি আপ্যায়নতো আমাদের সংস্কৃতির এক অন্যতম মাধ্যম। আর তাই অতিথি আগমনে আর বাঙ্গালির রঙ বৈচিত্রের শৌখিনতায় ভরপুর থাকে অন্দর। আমাদের দেশীয়ও আবহের আমজে আমরা যেনও সবদিক থেকে সেজে উঠি। ফুলেল নকশা কিংবা নকশী কাঁথার নকশাই যেনও আমাদের অন্দর নান্দনিকতায় মেতে উঠে।

বাঙালি আমেজে অন্দরসজ্জা 1বৈশাখে মেহমান আপ্যায়ন আর অন্যসব উৎসবের আমেজের পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমের শুরু কিন্তু এখান থেকেই। বাইরে প্রচুর গরম কিংবা রোদ থাকতেই পারে কিন্তু তাই বলে ঘরের ভেতর আলো বাতাসের প্রচুর সমাগম বন্ধ করা যাবেনা। কারন, পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ফলে ঘরের ফাঙ্গাস, ছত্রাক কিংবা পোকামাকড়ের উপদ্রুপ একদম চলে যাবে।

 

বৈশাখের আই আগমনী সময়ে দেশীয় উপাদান দিয়েই এই  উৎসবে মুলত ঘর সাজাতে ভালো লাগে। এ ছাড়া বাঁশ ও বেতের নান্দনিক ব্যবহার বৈশাখের আয়োজনে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করবে। যদি মেহমান বা পরিবারের সবার আপ্যায়নের সময়  খাবার টেবিলের রানারটি শীতল পাটি, বাঁশ অথবা নকশি কাঁথার উপকরন কিংবা দেশীয়ও গামছা বা উজ্জ্বল রঙের গ্রামীণ চেক কাপড়ের ব্যাবহার করা হয় তবে এমনিতেই তা অসাধারন লাগবে।। আবার তার সাথে যদি মাটির তৈরি গ্লাস, প্লেট,স্ট্যান্ড  ব্যাবহার করা হয় তবে তা দেখতে সত্যি ভিন্ন লাগবে। আবার মাটির ফুলদানিতে কিছু তাজা ফুল দিয়ে সাজালে টেবিলটি  অনেক আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

বাঙালি আমেজে অন্দরসজ্জা 2যেহেতু বাংলা নববর্ষ মানেই হচ্ছে বাংলা সংস্কৃতির ছোঁয়া তাই এমন দিনে ঘরের চারপাশে আবহমান  বাংলার শৈল্পিক নিদর্শন ফুটে উঠলেই যেনও বেশি ভালো লাগবে। তাই ব্যবহার করা যেতে পারে দেশীয় অন্দর সজ্জার খুব সাধারন কিছু জিনিষপত্র। বসার ঘরের একপাশে মেঝেতে বিছিয়ে দিতে পারেন শতরঞ্জি। তার ওপর ছড়িয়ে দিতে পারেন নকশীর কাজ করা ছোটো বড় নানান আকৃতির কুশন। আবার চাইলে শীতল পাটি বা মাদুরও ব্যবহার করতে পারেন। ছোটো ছোটো মাটির রঙিন পটারিতে গাছ থাকলে খুব সতেজ লাগবে ঘরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ। আবার খুব বেশি গরম হলে মাতির বোল বা পটারিতে পানি রেখে তাতে কিছু রঙিন মোম ও ভাসমান কিছু ফুল ছড়িয়ে দিলে অন্দরে একদম ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে। বিভিন্ন ধরনের তাজা সতেজ ফুল ঘরে সতেজতা নিয়ে আসবে। আর ফুলদানি ভালো লাগলে বাঙালী সাজের সঙ্গে মাটি, কাঠ, বাঁশ, মেটাল ও বেতের ফুলদানি ভাল মানাবে। দেয়ালে নানান রঙের সাথে ঝুলিয়ে দিতে পারেন মুখোশ বা রিকশা পেইন্টিঙের কিছুটা ছোঁয়া। আসলে খুব পরিপাটি ভাবেই কিন্তু আপনার ঝকঝকে বসার ঘরের দৈনন্দিন সাজতি পাল্টে ফেলতে পারেন পহেলা বৈশাখের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। এতে ঘরের সাজে যেমন উত্সবের আমেজ টের পাওয়া যাবে, তেমনি দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাবও কাটবে। যদি কিছুটা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকে তবে কাঠের আসবাবের পরিবর্তে বাঁশ ও বেতের আসবাবও  ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। আর উৎসবের জন্য উজ্জ্বল রঙের পাশাপাশি হাল্কা রঙের ঘনঘটাও বেশ প্রানবন্ত ভাব বজায়  থাকবে অন্দরে। বাঙালি আমেজে অন্দরসজ্জা 3

চাইলে শীতল পাটি বা মাদুরও ব্যবহার করতে পারেন। এবার কয়েকটি পটারিতে গাছের পাশাপাশি একটা মাটির চাড়িতে পানি রাখুন। তাতে কিছু রঙিন মোম ও ভাসমান ফুল দিন। ফুলসহ ফুলদানি বসার ঘরে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বাঙালী সাজের সঙ্গে মাটি, কাঠ, বাঁশ, মেটাল ও বেতের ফুলদানি ভাল মানায়।

আপনজনের সাথে উৎসবের আমেজে মেতে উঠতে বাসায় তাজা ফুল রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন। তাজা ফুল খুব সুন্দর এয়ার ফ্রেশনার হিসেবে কাজ করবে। কিংবা ভালো কোনো এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করবেন। তবে মনে রাখতে হবে, দরজা জানালা একেবারে বন্ধ রেখে এয়ার ফ্রেশনার দিয়ে বসে থাকবেন না। এতে বাতাসে সুগন্ধ থাকলেও ঘরের ভেতর গুমোট হয়ে যাবে।

বাঙালি আমেজে অন্দরসজ্জা 4বাংলা নববর্ষ কিংবা পহেলা বৈশাখ মূলত আমাদের প্রানের উৎসব। আর বাঙালি আমাজের  এই  উৎসবের আনন্দ কে পরিপূর্ণ করতে কাছের আপনজনের সাথে সময় কাটানোটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় আমাদের কাছে। তাই, নিজ অন্দরেই যদি করে নিতে পারি উৎসবমুখর পরিবেশ আর সাথে যদি থাকে মুখরোচক উপাদেয়ও খাদ্য তবে অন্দর হয়ে উঠবে নির্মল আনন্দের এক স্থাপনা।

 

ইন্টেরিওর আর্কিটেক্ট

ছবি: আর্কিডেন ইন্টিরিওর